সরকারি প্রতিষ্ঠানও নদী দখল করছে : ড. শামসুল আলম
Published : Thursday, 30 May, 2024 at 10:03 PM, Count : 1111

বর্তমান প্রতিবেদক: উন্নয়ন পরিকল্পনায় নদী ও পরিবেশের সুরক্ষা বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সাবেক পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক ড. শামসুল আলম। তিনি বলেছেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানও নদী দখল করছে। নদীর জায়গায় মার্কেট করে প্রতিষ্ঠানের আয় বাড়াচ্ছে। কিন্তু নদী না বাঁচলে, কোন উন্নয়নই টেকসই হবে না। আমরা টিকে থাকতে পারবো না। তাই নদী ও জলাশয় সুরক্ষায় সম্মিলিত ভাবে কাজ করতে হবে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ, কাউন্টারপার্ট ইন্টারন্যাশনাল ও ইউএসএআইডি আয়োজিত ‘ঢাকার পরিবেশ : পানি, বায়ু এবং শব্দ দূষণ বিষয়ে নীতি, আইনি কাঠামো ও জনআকাঙ্ক্ষা’ শীর্ষক নাগরিক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন তিনি। প্রতিযোগিতা কমিশনের বেসরকারি উপদেষ্টা এমএস সিদ্দিকী’র সভাপতিত্বে এবং ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের সমন্বয়ক শরীফ জামিলের সঞ্চালনায় সংলাপে বক্তৃতা করেন রিভার অ্যান্ড ডেল্টা রিসার্চ সেন্টারের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ এজাজ, স্ট্যামেফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার, লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ল’র সহযোগী প্রভাষক গোলাম সারোয়ার, ডেফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. আজিজুর রহমান, রিভার বাংলার সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ, বুড়িগঙ্গা নদী মোর্চার সদস্য ক্যামেলিয়া চৌধুরী প্রমুখ।

সংলাপে ড. শামসুল আলম বলেন, ‌‌‘জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিরূপণে আমরা এক শ বছরের পরিকল্পনা করেছি, যা বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা-২১০০ নামে পরিচিত। ব-দ্বীপ পরিকল্পনায় বলেছি, নদীগুলোকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়ছে, ঢাকার তাপমাত্রাও বাড়ছে। সত্তরের দশক এবং গত দশকের তুলনা করলে আমরা দেখতে পাই ঢাকার তাপমাত্রা এক ডিগ্রি সেন্টিগ্রেট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাপমাত্রা কমাতে হলে জলাধার সৃষ্টি করতে হবে। আমাদের আইন, নীতি এবং কৌশলপত্র আছে, কিন্তু তার যথাযথ প্রয়োগ নেই। আইন এবং নীতি বাস্তবায়নে আমাদেরকে কাজ করতে হবে এবং নদীকে বাঁচাতে হলে নদী রক্ষা কমিশনকে অবশ্যই বিচারিক ক্ষমতা দেওয়া উচিত।‌‌’ ঢাকার পরিবেশ দূষণ ঠেকাতে সমন্বিত পরিকল্পনা স্বচ্ছতার সাথে প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের আহ্বান জানান শরীফ জামিল। তিনি বলেন, ‌‌‘নীতিনির্ধারকদের অবশ্যই মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তন আনতে হবে।

নদী বায়ু ও শব্দ দূষণের ফলে জাতীয় অর্থনীতি এবং জনস্বাস্থ্যের ওপর যে প্রভাব পড়ছে, তা অবশ্যই আমাদের বিবেচনায় নিতে হবে। নৌযানগুলো অপরিশোধিত বর্জ্য নদীতে ফেলছে। হাজারিবাগ ট্যানারির বর্জ্য এখনো নদীতে গিয়ে পড়ছে আবার বুড়িগঙ্গাপাড়ের অপরিশোধিত শিল্পবর্জ্যও নদীতে গিয়ে পড়ছে। ধলেশ্বরীতে নতুন ট্যানারি শিল্পাঞ্চল দূষণ অব্যাহত ভাবে চালিয়ে যাচ্ছে। বুড়িগঙ্গার পানিতে ক্যাডমিয়াম, ক্রোমিয়ামের মতো ক্ষতিকর ধাতু পাওয়া গেছে, যা শ্যামপুর ডাইং কারখানাসমূহ থেকে আসছে।’

মোহাম্মদ এজাজ বলেন, ‌‌‘আমাদের উন্নয়ন পরিকল্পনায় জনসম্পৃক্ততা নেই। জনসম্পৃক্ততার যে কথাগুলো বলা হয়, তা কাগজে কলমে। ২০০৫ সাল থেকে শুরু করে ঢাকা ও ঢাকার আশপাশে যে শিল্পায়ন হয়েছে, তার অধিকাংশ জলাধারের পাশে, অথবা জলাধার ভরাট করে হয়েছে। তখন নীতি তৈরির মাধ্যমে পরিবেশ বিনষ্টের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়। পরিবেশ সুরক্ষায় যেকোনো উন্নয়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।‌‌’
সভাপতির বক্তব্যে এমএস সিদ্দিকী বলেন, ‌‌‘আমাদের যথেষ্ট আইন ও নীতিমালা রয়েছে। কিন্তু আইনের ফাঁক-ফোকরও আছে। আবার আইনের যথাযথ প্রয়োগের সংকট রয়েছে। তাই আমাদের পরিবেশ-নদীকে বাঁচাতে হলে অবশ্যই আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।‌‌’



« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক ও প্রকাশক: আলহাজ্ব মিজানুর রহমান, উপদেষ্টা সম্পাদক: এ. কে. এম জায়েদ হোসেন খান, নির্বাহী সম্পাদক: নাজমূল হক সরকার।
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৩৪ ফকিরাপুল, ঢাকা থেকে মুদ্রিত।
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : মুন গ্রুপ, লেভেল-১৭, সানমুন স্টার টাওয়ার ৩৭ দিলকুশা বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।, ফোন: ০২-৯৫৮৪১২৪-৫, ফ্যাক্স: ৯৫৮৪১২৩
ওয়েবসাইট : www.dailybartoman.com ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Developed & Maintainance by i2soft