শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দৃষ্টিনন্দন ভবন
উন্নয়নে ১০ বছরে শিক্ষা ক্ষেত্রে বদলে গেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ
Published : Wednesday, 19 October, 2022 at 3:42 PM, Count : 2099

বদিউজ্জামান রাজাবাবু, চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি: গাছের নিচে কিংবা ভাঙা বেড়ার ঘরে বসে শিক্ষার্থীদের পাঠদানের দৃশ্য এখন অতীত। শহর কিংবা প্রত্যন্ত গ্রামেও এখন আর দেখা মেলে না এমন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে এখন তৈরি হয়েছে দৃষ্টি নন্দন একাডেমিক ভবন।

সবার জন্য শিক্ষা নিশ্চিত করা, সাক্ষরতার হার বৃদ্ধি, বিদ্যালয়ে ভর্তির হার শতভাগ, ছাত্রছাত্রীর সমতা, নারী শিক্ষায় অগ্রগতি, ঝরে পড়া কমে যাওয়াসহ শিক্ষার অধিকাংশ ক্ষেত্রই রোল মডেল এখন বাংলাদেশ। শিক্ষার অগ্রগতিতে গত এক দশকই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। সরকারি ভাষ্য নয় বরং বিশ্বব্যাংক, ইউনেস্কো, বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামসহ আন্তর্জাতিক দাতা ও গবেষণা সংস্থা বাংলাদেশের শিক্ষার অগ্রগতিকে অন্যদের জন্য উদাহরণ অভিহিত করে বলছে, শিক্ষায় প্রতিটি পর্যায়ে ব্যাপক অগ্রগতি অর্জন করেছে বাংলাদেশ। শিক্ষার অন্যান্য সূচকের চেয়ে কোন অংশেই পিছিয়ে নেই শিক্ষা অবকাঠামো উন্নয়নে। বরং গত ১০ বছরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ও নির্দেশনায় নান্দনিক ভবন নির্মাণ, আধুনিক ক্লাসরুমসহ অন্যান্য ভৌত অবকাঠামোন নির্মাণে বিপ্লব সৃষ্টি করেছে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর (ইইডি)। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নির্মাণ করা হচ্ছে নতুন নতুন ভবন। অগ্রাধিকার পাচ্ছে পিছিয়ে থাকা ও অনগ্রসর অঞ্চলও। এসব ভবনে থাকছে পরিবেশ বান্ধব ও নান্দনিকতার ছোঁয়া। শিক্ষা ক্ষেত্রের এ উন্নয়নে পিছিয়ে নেই বাংলাদেশের প্রাচীন জনপদ আমের রাজধানী দেশের উত্তরের জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জ।

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) অন্যতম অংশ মানসম্মত শিক্ষা। আর শিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য প্রয়োজন আধুনিক ও প্রযুক্তিগত সুবিধা-সংবলিত শিক্ষা অবকাঠামো। গত ১০ বছরে বদলে গেছে সারা দেশের ন্যায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর চেহারা। মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে নবনির্মিত আধুনিক সুবিধা সম্পন্ন নতুন মডেলের পরিবেশ বান্ধব ও নান্দনিক সব বহুতল ভবন। সেইসাথে চলমান রয়েছে আরো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণ ও পুরাতন প্রতিষ্ঠানের আধুনিকায়নের কাজ।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিুবল আহসান জানান, “ভবনগুলোয় আধুনিক ক্লাসরুম, পয়ঃনিষ্কাশন ও সুপেয় পানির ব্যবস্থা, দৃষ্টিনন্দন রুপটালি ব্যবহার, ব্ল্যাক ও সাদা বোর্ড ব্যবহার, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য র‌্যাম্প তৈরিসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। ভবনগুলো ভূমিকম্প সহনীয় ও বজ্রনিরোধ প্রযুক্তি ব্যবহার করে নির্মাণ করা হয়েছে।”

নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত পাঁচ বছরেই অনেকগুলো মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্মাণ করা হয়েছে মনোরম একাডেমিক ভবন। এর মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় শিক্ষার মানোন্নয়নের লক্ষে নির্বাচিত বেসরকারি কলেজসমূহের উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় গত প্রায় পাঁচ বছরেই ৬১ কলেজে চারতলা ভিতবিশিষ্ট চারতলা একাডেমিক ভবন নির্মাণ ও বিদ্যমান ভবনের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ কাজ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৪৫ কোটি টাকা। একই প্রকল্পের আওতায় ২২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চারতলা ভিত বিশিষ্ট চারতলা একাডেমিক ভবন নির্মাণ ও বিদ্যমান ভবনের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ কাজ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এ কাজে ব্যয় হয়েছে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা। এছাড়া আটটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঁচ তলা ভিতবিশিষ্ট পাঁচ তলা ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। এতে সরকারের ব্যয় হয়েছে প্রায় ১৬ কোটি টাকা। অন্যদিকে নির্বাচিত বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়সমূহের উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ৩০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চারতলা ভিতবিশষ্ট চারতলা একাডেমিক ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। এতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৭৭ কোটি টাকা। এছাড়াও কারিগরি ও মাদ্রাসা দুই বিভাগের সমস্ত কাজ শিক্ষা প্রকৌশল করে থাকে।

অপর দিকে নির্বাচিত মাদ্রাসাসমূহের উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ১৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চারতলা ভিতবিশিষ্ট চারতলা একাডেমিক ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। এতে ব্যয় হয়েছে ৪৯ কোটি টাকা। চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রায় ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে ছয়তলা ভিতবিশিষ্ট ছয়তলা একাডেমিক ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। সরকারি কলেজগুলোতে বিজ্ঞান শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ (২০০ সরকারি কলেজ) শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ছয়তলা ভিতবিশিষ্ট ছয়তলা একাডেমিক ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। এতে ব্যয় হয়েছে ২০ কোটি টাকার অধিক।

কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরাধীন ৬৪টি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের সক্ষমতা বৃদ্ধি শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজে স্যানিটেশন ও বিদ্যুতায়নসহ পাঁচতলা ভিতবিশিষ্ট পাঁচতলা একাডেমিক ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। এতে ব্যয় হয়েছে ৮ কোটি টাকার অধিক। এরকম আরো অনেক ভবন নির্মাণ ও মেরামতসহ আনুষঙ্গিক কাজ করা হয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এই জেলায় নির্বাহী প্রকৌশলী পদে লোক দেয়ায় কাজের গতি বেড়েছে কয়েকগুণ। তবে জেলার ৫ উপজেলায় একজন করে উপ-সহকারী প্রকৌশলীর মঞ্জুরিকৃত পদ থাকলেও শিবগঞ্জ ও নাচোল ছাড়া সদর, গোমস্তাপুর ও ভোলাহাট উপজেলায় পদ তিনটি শূন্য রয়েছে। দাপ্তরিক কাজের জন্য অন্য পদগুলোয় আউট সোর্সিংয়ের মাধ্যমে লোক নিয়োগ করে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। তারপরও থেমে নেই কার্যক্রম। নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল আহসানের নেতৃত্বে সীমিত জনবল দিয়েই প্রতিটি কাজের সর্বোচ্চ তদারকি ও মান নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় জনবল দেয়া হলে কাজের গতি আরো বেড়ে যাবে বলে সচেতন মহল মনে করছেন।



« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক ও প্রকাশক: আলহাজ্ব মিজানুর রহমান, উপদেষ্টা সম্পাদক: এ. কে. এম জায়েদ হোসেন খান, নির্বাহী সম্পাদক: নাজমূল হক সরকার।
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৩৪ ফকিরাপুল, ঢাকা থেকে মুদ্রিত।
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : মুন গ্রুপ, লেভেল-১৭, সানমুন স্টার টাওয়ার ৩৭ দিলকুশা বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।, ফোন: ০২-৯৫৮৪১২৪-৫, ফ্যাক্স: ৯৫৮৪১২৩
ওয়েবসাইট : www.dailybartoman.com ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Developed & Maintainance by i2soft