ভাষা আন্দোলনের বীর সেনানি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব
Published : Monday, 19 February, 2018 at 10:06 PM, Count : 3074

ড. এস এম জাহাঙ্গীর আলম : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তান সৃষ্টির পর ভারত থেকে তত্কালীন পূর্ব বাংলায় প্রত্যাবর্তন করার পর সরাসরি ভাষা আন্দোলনে শরিক হন। গণতান্ত্রিক যুবলীগ গঠিত হয় ১৯৪৭ সালের ৬ ও ৭ সেপ্টেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত পূর্ব বাংলার কর্মী সম্মেলনে। উক্ত সম্মেলনে গৃহীত হয় ভাষা বিষয়ক কিছু প্রস্তাব। প্রস্তাবগুলো পাঠ করেন সেদিনের ছাত্রনেতা শেখ মুজিবুর রহমান। ভাষা সম্পর্কিত প্রস্তাব উপস্থাপন করে তিনি বলেন, ‘বাংলা ভাষাকে পূর্ব বাংলার লিখার বাহন ও আইন আদালতের ভাষা করা হউক। সমগ্র পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা কি হইবে তত্সম্পর্কে আলাপ-আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ভার জনসাধারণের উপর ছাড়িয়া দেয়া হউক এবং জনগণের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলিয়া গৃহীত হউক।’ এভাবেই ভাষার দাবি প্রথমে উচ্চারিত হয়েছিল। (সূত্র : ভাষা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধুর ভূমিকা, গাজীউল হক, ভালবাসি মাতৃভাষা, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অমর একুশে তথ্য সংগ্রহ ও প্রকাশনা উপ-কমিটি কর্তৃক ভাষা-আন্দোলনের ৫০ বছর পূর্তি স্মারকগ্রন্থ, ২০০২ সাল)। ভাষা আন্দোলনের শুরুতে তমদ্দুন মজলিসের রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন সংক্রান্ত বহুকাজে সাহায্য ও সমর্থন করেছিলেন সেদিনের ছাত্রনেতা শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি ১৯৪৭ সালে রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের সঙ্গে বাংলা ভাষার দাবির সপক্ষে স্বাক্ষর সংগ্রহ অভিযানে অংশগ্রহণ করেন এবং বিভিন্ন সভা-সমাবেশসহ মিছিলে অংশগগ্রহণ করেন। ১৯৪৭ সালের ৫ ডিসেম্বর পূর্ব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দিনের সরকারি বাসভবন তত্কালীন বর্ধমান হাউসে (বর্তমানে বাংলা একাডেমী) বঙ্গীয় প্রাদেশিক মুসলিম লীগ ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক চলাকালে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে অনুষ্ঠিত মিছিলে অংশগ্রহণ করেন এবং নেতৃত্বদান করেন শেখ মুজিবুর রহমান। উল্লেখ করা যায় কলকাতা থেকে শেখ মুজিবুর রহমান, জহিরুদ্দিন, নঈমুদ্দিনের মতো নেতারা প্রথমে ঢাকার ১৫০ মোগলটুলীতেই জমায়েত হতো। বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার নানা কর্ম পরিকল্পনা এখানে নেয়া হতো। শেখ মুজিবুর রহমান, শওকত আলী, কামরুনদ্দিন আহমদ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ ছিলেন ১৫০ মোগলটুলীর প্রাণশক্তি ছিল। বাংলা ভাষাসহ পাকিস্তানের অন্যান্য বৈষম্যমূলক দিকগুলো জাতির সামনে তুলে ধরতেন ওখানকার কর্মীবাহিনী। ১৫০ মোগলটুলী বিরোধী রাজনীতির সূতিকাগার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে। ১৯৪৭ সালের ডিসেম্বর মাসে একটি পুস্তিকা আকারে ইস্তেহার প্রকাশিত হয়েছিল যার নাম ‘রাষ্ট্রভাষা-২১ দফা ইস্তেহার-ঐতিহাসিক দলিল’। ওই ইস্তেহারে ২১ দফা দাবির মধ্যে দ্বিতীয় দাবিটি ছিল রাষ্ট্রভাষা সংক্রান্ত। উক্ত পুস্তিকাটি ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে ঐতিহাসিক প্রামাণ্য দলিল হিসেবে স্বীকৃত। এই ইস্তেহার প্রণয়নে শেখ মুজিবুর রহমানের অবদান ছিল অনস্কীকার্য এবং তিনি ছিলেন অন্যতম স্বাক্ষরদাতা। ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি গঠিত হয় ছাত্রলীগ। ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে এই সংগঠনটির ভূমিকা খুবই স্মরণীয়। ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত ছাত্রলীগের ১০ দফা দাবির মধ্যে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা বাংলা করার দাবি ছিল অন্যতম দাবি। ১৯৪৮ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় ধর্মঘট পালিত হয়। ধর্মঘট চলাকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অধ্যাপক আবুল কাসেমের সভাপতিত্বে এক সমাবেশ হয়। অধ্যাপক আবুল কাসেম ছিলেন তমদ্দুন মজলিস প্রধান। ওই দিনও শেখ মুজিবুর রহমান বলিষ্ঠ নেতৃত্বদান করেন। ১৯৪৮ সালের ২ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলে তমদ্দুন মুজলিস ও ছাত্রলীগের যৌথ সভায় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ পুনর্গঠন করা হয়। এই সভায় যাঁরা উপস্থিত ছিলেন, তাঁদের মধ্যে শেখ মুজিবুর রহমান, শামসুল হক, অলি আহাম, মুহাম্মদ তোহাব, আবুল কাসেম, রণেস দাশ গুপ্ত, অজিত গুহ প্রমুখের নাম উল্লেখযোগ্য। বাংলা ভাষা বিরোধী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে সক্রিয় আন্দোলন গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে এই সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠন করা হয়। এতে গণআজাদী লীগ, গণতান্ত্রিক যুবলীগ, ছাত্রলীগ, তমদ্দুন মজলিস, ছাত্রাবাসগুলোর সংসদ প্রভৃতি ছাত্র ও যুব প্রতিষ্ঠান দু’জন করে প্রতিনিধি দান করে। এই সংগ্রাম পরিষদ গঠনে শেখ মুজিবুর রহমান বিশেষভাবে সক্রিয় ছিলেন এবং তাঁর ভূমিকা ছিল যেমন বলিষ্ঠ তেমনি সুদূরপ্রসারী। এই রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ ১১ মার্চ সাধারণ ধর্মঘট (হরতাল) পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে এক অনন্য অবিস্মরণীয় দিন। এই দিনে রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে সর্বাত্মক সাধারণ ধর্মঘট পালিত হয়। এটাই ছিল ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে তথা পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর এ দেশে সফল হরতাল বা সাধারণ ধর্মঘট। এই হরতালে শেখ মুজিবুর রহমান নেতৃত্ব প্রদান করেন এবং পুলিশি নির্যাতনের শিকার হয়ে গ্রেফতার হন। পাকিস্তানের রাজনীতিতে এটিই ছাত্রনেতা শেখ মুজিবুর রহমানের প্রথম গ্রেফতার। ১১ মার্চের গ্রেফতার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক জীবনের উল্লেখযোগ্য ঘটনা। ১১ মার্চের নির্যাতনের প্রতিবাদে ঢাকাতে বেশ কিছু বিক্ষিপ্ত ঘটনা ঘটে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ শহরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ১৩ মার্চ পূর্ণ ধর্মঘট পালিত হয়। ১৪ মার্চ পূর্ব বাংলার সর্বত্র ধর্মঘট পালিত হয়। ১৯৪৮ সালের ১৫ মার্চ রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ-এর সঙ্গে তদানীন্তন পূর্ব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দিনের সঙ্গে আট দফা চুক্তি স্বাক্ষরিত স্বাক্ষরিত হয়। কারাবন্দি অন্যদের সঙ্গে শেখ মুজিবুর রহমানও চুক্তির শর্ত দেখেন এবং অনুমোদন প্রদান করেন। এই ঐতিহাসিক চুক্তির ফলে সর্বপ্রথম বাংলাভাষা শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে স্বীকৃত লাভ করেছিল এবং চুক্তির শর্ত মোতাবেক শেখ মুজিবুরসহ অন্য ভাষাসংগ্রামীরা কারামুক্ত হন। স্মরণ করা যেতে পারে যে, এই ঐতিহাসিক চুক্তির ফলে একটি প্রতিষ্ঠিত সরকার এ দেশবাসীর কাছে নতি স্বীকারে বাধ্য হয়েছিল। ১৯৪৮ সালের ১৬ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় ভাষা আন্দোলনকে বেগবান করার লক্ষ্যে এক সাধারণ ছাত্রসভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে পূর্ববাংলা আইন পরিষদ ভবন অভিমুখে এক মিছিল বের হয়। ওই সভায় সভাপতিত্ব করেন সদ্য কারামুক্ত নেতা শেখ মুজিবুর রহমান। ১৯৪৮ সালের ১৭ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলার ছাত্রলীগের আহ্বানে নঈমুদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেই সভায় শেখ মুজিবুর রহমান অংশগ্রহণ করেন। তিনি একজন অসম সাহসী যুবনেতা হিসেবে ছাত্র সমাজে এই সময় থেকেই ধীরে ধীরে স্বীকৃতি লাভ করতে থাকেন। পাশাপাশি পরিচয় লাভ করতে থাকেন বলিষ্ঠ প্রত্যয়সম্পন্ন একজন নেতা হিসেবে। বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায় যে, শেখ মুজিবুর রহমান, তাজউদ্দীন আহমদ, মোহাম্মদ তোয়াহা, নঈমুদ্দিন আহমদ, শওকত আলী, আবদুল হক প্রমুখ যুবনেতার কঠোর সাধনার ফলে বাংলা ভাষা আন্দোলন সমগ্র পূর্ব বাংলায় একটি গণআন্দোলন হিসেবে ছড়িয়ে পড়েছিল। জনসভা, মিছিল আর স্লোগানে সমগ্র পূর্ব বাংলা যেন কেঁপে উঠতে লাগল। শোভাযাত্রা ও বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেয়ার বেলায় অন্যান্যের মধ্যে শেখ মুজিবের ভূমিকা ছিল অবিস্মরণীয়। শেখ মুজিবুর রহমান আন্দোলনে জড়িত থাকার কারণে ১৯৪৯ সালে দু’বার গ্রেফতার হন। ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনের বিস্ফোরণ পর্বে শেখ মুজিবুুর রহমান জেলে ছিলেন। ব্যক্তিগতভাবে রাজনৈতিক ময়দানে অনুপস্থিত থাকলেও জেলে বসেই নিয়মিত আন্দোলনকারীদের সঙ্গে রাখতেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশ প্রদান করতেন। এ প্রসঙ্গে ভাষাসৈনিক গাজীউল হক তার স্মৃতিকথায় লিখেছেন-“১৯৪৯ সালের অক্টোবর মাসে গ্রেফতার হওয়ার পর জনাব শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৫২ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন জেলে আটক ছিলেন। ফলে স্বাভাবিক করণেই ’৫১ সালে ভাষা আন্দোলনের সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করা জনাব শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে সম্ভব ছিল না। তবে জেলে থেকেই তিনি আন্দোলনে নেতৃবৃন্দের সঙ্গে যোগযোগ রক্ষা করে চলতেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ দিতেন।’ (সূত্র : ভাষা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধুর ভূমিকা, গাজীউল হক, ভালবাসি মাতৃভাষা, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অমর একুশে তথ্য সংগ্রহ ও প্রকাশনা উপ-কমিটি কর্তৃক ভাষা-আন্দোলনের ৫০ বছর পূর্তি স্মারকগ্রন্থ, ২০০২ সাল)। শেখ মুজিবুর রহমান জেলে থাকা অবস্থায় স্বাস্থ্য খুব ভেঙে পড়ায় ১৯৫২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের দিকে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তি করা হয়। রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে যারা গুরুত্বপূর্ণ ছিলেন, যেমন-আব্দুস সামাদ আজাদ, জিল্লুর রহমান, কামরুজ্জামান, আব্দুল মমিন তারা সকলেই একবাক্যে স্বীকার করেছেন যে, বঙ্গবন্ধু জেলখানা থেকে এবং পরে হাসপাতালে থাকাকালীন আন্দোলন সম্পর্কে চিরকূটের মাধ্যমে নির্দেশ পাঠাতেন। একাধিক সূত্র মোতাবেক জানা যায় যে, শেখ মুজিবুর রহমান ও মহিউদ্দিন আহমদ ঢাকা মেডিকেল কলেজে অনশন শুরু করেন ১৬ ফেব্রুয়ারি। পরবর্তীতে শেখ মুজিবুর রহমানকে ফরিদপুর জেলে পাঠানো হয়। ফরিদপুর জেলে যাওয়ার আগে ও পরে ছাত্রলীগের একাধিক নেতার কাছে চিরকুট পাঠিয়েছেন তিনি। (তথ্যসূত্র: আবদুল গাফফার চৌধুরী, ভালোবাসি মাতৃভাষা)।
১৯৫২ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি শেখ মুজিবুর রহমান মুক্তিলাভ করেন। ২৭ এপ্রিল ১৯৫২ তারিখে সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের জেলা ও মহকুমা প্রতিনিধি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ওই প্রতিনিধিত্ব আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শেখ মুজিবুর রহমান। ভাষা আন্দোলনের সফলতা পর্বে তার অবদান অনস্বীকার্য। ১৯৫৩ সালে একুশের প্রথম বার্ষিকী পালনেও বঙ্গবন্ধুর যথেষ্ট ভূমিকা ছিল। এ উপলক্ষে আরমানিটোলা ময়দানে অনুষ্ঠিত জনসভায় তিনি সেদিন একুশে ফেব্রুয়ারিকে শহীদ দিবস হিসেবে ঘোষণা দেয়ার আহ্বান জানান এবং অবিলম্বে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি জানান। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের বিস্ফোরণের পর ভাষা আন্দোলনের চেতনাকে কাজে লাগিয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়। ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট সরকারের একজন মন্ত্রী হিসেবে শেখ মুজিবুর রহমান সমকালীন রাজনীতি এবং বাংলা ভাষার উন্নয়নে অবদান রাখেন। পরবর্তীকালেও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাভাষা ও বাঙালিদের অধিকারের সেই একই দাবি আরো বর্ধিত উচ্চারণে জাতির সামনে তুলে ধরতে সক্ষম হন। ১৯৫৬ সালের ১৭ জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত আইন পরিষদের অধিবেশনে বঙ্গবন্ধু সংসদের দৈনন্দিন কর্মসূচি বাংলা ভাষায় মুদ্রণ করার দাবি জানান। সে সময় এই কর্মসূচি শুধু ইংরেজ ও উর্দু ভাষায় মুদ্রিত হতো। ১৯৫৬ সালের ৭ ফেব্রুয়ারির অধিবেশনে তিনি খসড়া শাসনতন্ত্রে রাষ্ট্রের অন্তর্গত জাতীয় ভাষা সংক্রান্ত প্রশ্নে তিনি বলেছিলেন, “বাংলাও রাষ্ট্রীয় ভাষা হোক”। ১৬ ফেব্রুয়ারি তারিখের আইন সভার অধিবেশনেও তিনি বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি জানান।” (সূত্র: পরিশিষ্ট - ২, ভালোবাসি মাতৃভাষা, ভাষা-আন্দোলনের ৫০ বছর পূর্তি স্মারকগ্রন্থ- বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, মার্চ ২০০২, পৃ. ১৮২-১৯১)। বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদাদান, সর্বস্তরে বাংলা ভাষা চালু, সংসদের দৈনন্দিন কার্যাবলি বাংলার চালু প্রসঙ্গে তিনি আইন সভায় গর্জে ওঠেন এবং মহানায়কের ভূমিকা পালন করেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমৃত্যু বাংলা ভাষার একনিষ্ঠ সেবক হিসেবে বাংলা ভাষার বিকাশে ও সর্বস্তরে বাংলা ভাষা প্রচলনের ক্ষেত্রে স্বার্থক ও যোগ্য নেতৃত্ব দিয়েছেন। এই মহান নেতা বিশ্বের দরবারে বাংলা ভাষার স্বীকৃতি আদায় এবং বাংলাভাষা ও বাংলা ভাষীদের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচয় দিয়েছেন। ১৯৭৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে বাংলাভাষায় ভাষণ দিয়ে যে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছেন, তা ইতিহাসের পাতায় চিরদিন স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। বিশ্বসভায় বাংলা ভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠার এটাই ছিল প্রথম সফল ও উজ্জ্বল উদ্যোগ।
লেখকঃ বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাবেক কর কমিশনার ও চেয়ারম্যান ন্যাশনারল এফ এফ ফাইন্ডেশন



« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক ও প্রকাশক: আলহাজ্ব মিজানুর রহমান, উপদেষ্টা সম্পাদক: এ. কে. এম জায়েদ হোসেন খান, নির্বাহী সম্পাদক: নাজমূল হক সরকার।
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৩৪ ফকিরাপুল, ঢাকা থেকে মুদ্রিত।
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : মুন গ্রুপ, লেভেল-১৭, সানমুন স্টার টাওয়ার ৩৭ দিলকুশা বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।, ফোন: ০২-৯৫৮৪১২৪-৫, ফ্যাক্স: ৯৫৮৪১২৩
ওয়েবসাইট : www.dailybartoman.com ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Developed & Maintainance by i2soft